গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত‍্যু : শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ বাবার বাড়ির সদস‍্যদের

4th October 2021 6:25 pm বর্ধমান
গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত‍্যু : শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ বাবার বাড়ির সদস‍্যদের


মীর ওজল ( খন্ডঘোষ ) :  গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল খণ্ডঘোষ থানার কামালপুর গ্রামে।ওই মৃত গৃহবধূর নাম জানা যায় রিনা বেগম( ২৮ ) তার বাপের বাড়ি বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস থানার অন্তর্গত ভাষা পুর গ্রামে, আজ ভোরে কামালপুর খালপাড়া এলাকার মানুষ দেখেন ওই গৃহবধূর তার বাড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে একটি গাছে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে। এরপর তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় খণ্ডঘোষ থানার পুলিশকে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন খন্ডঘোষ থানায়, গৃহবধূর বাপের বাড়ি সূত্রে জানা যায় সাত বছর আগে খণ্ডঘোষ ব্লকের কামালপুর গ্রামের খালপাড়া এলাকায় শেখ আলমগীর এর সঙ্গে তার বিবাহ হয় এবং তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে বলে জানা যায়। মৃত গৃহবধূর রিনা বেগম এর বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ তাদের মেয়েকে খুন করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে গাছে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে, এছাড়াও তারা আরো দাবি করেন বিয়ের পর থেকে তাদের মেয়ে রিনা বেগম এর উপর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যরা শারীরিক এবং মানসিকভাবে অত্যাচার করত, এবং রিনা বেগম সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মাঝের মধ্যে বাপের বাড়িতে গিয়ে থাকতো,গৃহবধূর বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে গৃহবধূর স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির পাঁচজন সদস্য নামে খন্ডঘোস থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী শেখ আলমগীর ও অভিযুক্ত শশুর শেখ হাকিমকে আটক করেন, খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠান, ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে, গৃহবধূর বাপের বাড়ির লোকজনের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে সেই বিষয়টি তদন্ত করছেন খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ।





Others News

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) : প্রায় এক বছর আগে আবেদন করেও মেয়ের জাতিগত শংসাপত্র মেলেনি । আবেদনকারীদের জাতি শংসাপত্র দেওয়ার
ক্ষেত্রে দেরি করা যাবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টোটাই ঘটে চলেছে।প্রায় এক বছর আগে  চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে  আবেদন করেছিলেন মা।কিন্তু মেয়ে কে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসলেও জাতি  শংসাপত্র আজও না মেলায় কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির রাধাকান্তপুর নিবাসী ঊর্মিলা দাস।ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য ঊর্মিলাদেবী বৃহস্পতি বার মেমারি ১ ব্লক বিডিও অফিসে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন। শংসাপত্র পাবার জন্য বিডিও সাহেব কি ব্যবস্থা করেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে ঊর্মিলাদেবী। 

বিডিওকে লিখিত আবেদনে ঊর্মিলাদেবী জানিয়েছেন ,তাঁর স্বামী মানিক দাস দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী ।বছর ১০ বয়সী তাঁদের একমাত্র কন্যা গ্রামের বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত কালে তাঁর ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য তিনি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী আবেদন করেছিলেন।  উর্মিলাদেবী বলেন ,তার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে  গেলেও তিনি তাঁর মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পান না।মেয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসায় গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে তিনি শংসাপত্রের বিষয়ে মেমারি ১ ব্লকের বিডিও অফিসে খোঁজ নিতে যান।জাতি শংসাপত্র বিষয়ের বায়িত্বে থাকা বিডিও অফিসের আধিকারিক তাঁকে অনলাইনে এই সংক্রান্ত একটি নথি বের করে আনতে বলেন । অনলাইনে সেই নথি বের করেনিয়ে তিনি ফের ওই আধিকারিকের কাছে যান । তা দেখার পর ওই আধিকারিক তাঁকে  ২০ দিন বাদে আসতে বলেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন , তিনি ২৫ দিন বাদে যাবার পর ওই আধিকারিক তাঁকে গোপগন্তার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে খোঁজ নেবার কথা বলেন । তিনি এরপর গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যান । নথি ঘেঁটে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে কোন ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি।ঊর্মিলাদেবী দাবী করেন ,এই ভাবে তিনি একবার বিডিও অফিস , আবার পঞ্চায়েত অফিসে দরবার করে চলেন । কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয় না। মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য  গত ১৩ ডিসেম্বর ফের তিনি বিডিও অফিসে যান ।ওই দিনও বিডিও অফিসের জাতি শংসাপত্র বিষয়ক বিভাগের আধিকারিক তাঁকে একই ভাবে পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যেতে বলে দায় সারেন। পরদিন তিনি পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে গেলে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ফের জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে  ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি । কেন মেয়ের জাতি শংসাপত্র পাচ্ছেন না সেই বিষয়ে  না পঞ্চায়েত না ব্লক প্রশাসনের কর্তৃপক্ষ কেউই তাঁকে কিছু জানাতে পারেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন ,পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির আগে তার মেয়ে যাতে ওবিসি শংসাপত্র পেয়ে যায় তার ব্যবস্থা করার জন্য এদিন তিনি বিডিওর কাছে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন । মেমারী ১ ব্লকের বিডিও আলী মহম্মদ ওলি উল্লাহ এদিন বলেন ,“জাতি শংসাপত্র পাবার জন্য হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ছে । তবে ঊর্মিলাদেবীর কন্যা দ্রুত যাতে বিবিসি শংসাপত্র দ্রুথ পান সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে “। মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য্য বলেন,’মেমারি  বিধানসভা এলাকার আবেদনকারীরা দ্রুত যাতে জাতি শংসাপত্র পান সেই বিষয়ে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার কথা বলবো’।